ময়না কাঠ পুজোর মধ্যে দিয়েই শুরু হলো কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী বড়দেবী মায়ের আরাধনা

Chandan Das

এসএন মিডিয়া,নিউজ ডেস্ক:যূগচ্ছেদন পুজোর মাধ্যমে রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী বড়দেবী পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ল কোচবিহারে। দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রীতি মেনে প্রায় ১১ ফুট লম্বা ময়না কাঠের ওপর দেবীর মুখাবয়ব বসিয়ে ওই পুজো হয়। ডাঙ্গরাই মন্দিরে ওই পুজো ঘিরে উৎসাহী ভক্ত, দর্শনার্থীদের ভিড় হয়েছিল। এদিন সন্ধ্যায় ওই মন্দির থেকে ময়না কাঠের যুগ মদনমোহন মন্দিরে আনা হয়। টানা একমাস মদনমোহন মন্দিরে ওই যুগের পুজো হবে। পরে তিথি অনুযায়ী দেবীবাড়ি এলাকার মন্দিরে যুগ নেওয়া হবে। সেখানেই ময়না কাঠের যুগ কাঠামোয় শক্তিদন্ড হিসেবে বসিয়ে তৈরি করা হবে বড়দেবীর প্রতিমা। জনশ্রুতি রয়েছে, মহারাজাদের স্বপ্নাদেশে দেখা দেবী রুপ ওই প্রাচীন পুজোয় উঠে এসেছে। দেবোত্তর ট্রাষ্ট বোর্ডের সদস্য, কোচবিহারের সদর মহকুমা শাসক কুণাল বন্দোপাধ্যায় বলেন, “ রীতি মেনে পুজোর সমস্ত আয়োজন হয়েছে।এদিনও পঞ্জিকার নির্ঘন্টঅনুযায়ী পুজো হয়েছে।”

দেবোত্তর ট্রাষ্ট বোর্ড সূত্রেই জানা গিয়েছে, এবার মদনমোহন মন্দির চত্বরে লাগান ময়না গাছের ডাল কেটে যূগচ্ছেদন পুজো হয়। গ্রামীণ এলাকায় খোঁজ না করেও পুজোর জন্য উপযোগী ময়না কাঠ না মেলায় মন্দিরের গাছের ডাল কাটা হয়। এক দশকের বেশি সময় আগে মন্দিরের ফাঁকা জায়গায় বেশ কিছু ময়না গাছ লাগান হয়েছিল।২০১৫ সালে প্রথমবার ওই মন্দির চত্বরের ময়না গাছের ডাল কেটে বড়দেবীর পুজোর কাজে লাগান হয়। তারপরেও একাধিকবার ওই পুজোয় মন্দির চত্বরের ময়না কাঠ ব্যবহার করা হয়। এবারেও ওই একই পথেই হাঁটতে হয়েছে। দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের কর্মী জয়ন্ত চক্রবর্তী জানান, সন্ধ্যারতির পর যূগ মদনমোহন মন্দিরে আনা হয়।মন্দির চত্বরে ময়না গাছ আগেও জরুরি প্রয়োজনে পুজোর কাজে লাগান হয়েছিল।

দেবোত্তর সূত্রেই জানা গিয়েছে, বড়দেবীর প্রতিমার রঙ রক্তবর্ণ। দেবীর দুইদিকে থাকেন জয়া-বিজয়া। চলতি বছর পুজোর প্রতিমা দর্শন, অঞ্জলিতেও ভিড় উপচে পড়ে।

Share This Article
Leave a comment