এসএন মিডিয়া,নিউজ ডেস্ক : ঝাড়গ্রাম–ঝাড়খণ্ড সীমান্তে চোরাপথ ধরে চলছিল অবৈধ বালির স্রোত। রাত নামলেই শুরু হত ট্রাকের পর ট্রাক যাতায়াত। বারবার অভিযোগ উঠলেও পাচারচক্র ছিল কার্যত অপ্রতিরোধ্য। অবশেষে সোমবার গভীর রাতে সেই বেআইনি দৌরাত্ম্যে বড় ধাক্কা দিল ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে মানিকপাড়া ফাঁড়ির পুলিশের বিশেষ অভিযানেই ধরা পড়ল আটটি বালি বোঝাই ট্রাক। পুলিশ জানিয়েছে, রাতভর সীমান্তে নাকা চেকিং ও নজরদারির পর আটটি ট্রাক আটক করা হয় এবং পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এই ট্রাকগুলিতে থাকা বালির পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল, যা দেখে অনুমান করা হচ্ছে—এটি কোনও ছোটখাট নয়, বরং বহুদিন ধরে সক্রিয় একটি বড় মাফিয়া চক্রের অংশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দু’জন— গৌতম পাত্র ও সুনীল পাত্র, বাড়ি বেলপাহাড়ি থানার বালিচুয়া গ্রামে। বাকি তিনজন হলেন— কৃষ্ণ পাতর, ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া থানার কদমডিহা গ্রামের বাসিন্দা; ভূপেন মুর্মু, বেলিয়াবেড়া থানার পোরাডিহা গ্রামের; এবং সমর সাধন, বিনপুর থানার মেঘাবাঁধি গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে খবর, আটক গাড়িগুলির চালক ও শ্রমিকদের কাছে বৈধ নথি চাওয়া হলেও কেউই কোনও নথি দেখাতে পারেননি। এরপরই ট্রাকগুলি বাজেয়াপ্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ধৃতদের ঝাড়গ্রাম জেলা আদালতে তোলা হয়। এদিন ধৃতদের ঝাড়গ্রাম জেলা আদালতে পেশ করা হলে মহামান্য বিচারক ২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। অভিযানে যুক্ত এক পুলিশ আধিকারিক বলেন— “কেবল ট্রাক নয়, এই ঘটনার পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত পাচারচক্র। কারা এই বালি তুলছিল, কোথায় পাঠানো হচ্ছিল এবং কারা সুরক্ষা দিচ্ছিল— সবই তদন্তের আওতায়।প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে যাতে কোনও পাচারচক্র ফের সক্রিয় হতে না পারে। পুলিশ মনে করছে, এই অভিযানের পর জেলার বালিমাফিয়া নেটওয়ার্কে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তদন্তে আরও তথ্য উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।