এসএন মিডিয়া,নিউজ ডেস্ক:কেন্দ্রের নয়া শ্রম কোড নিয়ে বিরোধিতা যে শুধু প্রশাসনিক আপত্তিতে সীমাবদ্ধ নয়, তা ফের স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কোচবিহারে একটি জনসভা থেকে তিনি কেন্দ্রের পাঠানো শ্রম–সংক্রান্ত নথির প্রতীকী প্রতিলিপি ছিঁড়ে ফেলে জানান, এই “অসম্মানজনক শর্ত” কোনওভাবেই মেনে নেবে না রাজ্য। তাঁর অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজের অর্থ মুক্তির ক্ষেত্রেই কেন্দ্র নতুন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “১০০ দিনের কাজের টাকা দিতে যে নয়া শর্ত চাপানো হয়েছে, তা অপমানজনক। আমরা মানিনি, মানবও না।”
দু’দিনের কোচবিহার সফরে এদিন রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, জনমুখী উদ্যোগ এবং কেন্দ্র–রাজ্য সম্পর্ক—সবকিছুই তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কেন্দ্রের কার্যকর করা নতুন শ্রম আইন। উল্লেখ্য, নভেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কার্যকর হওয়া এই নয়া শ্রম কোডের লক্ষ্য ৪৪টি পুরনো শ্রম আইনকে একত্র করে চারটি বিভাগে ভাগ করা—মজুরি, নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিল্প সম্পর্ক। বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে শ্রমিকদের সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই একীকরণের কথা বলা হয়েছে নতুন আইনে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগেই জানিয়েছিল যে এই কোড রাজ্যে কার্যকর করা হবে না। কিন্তু সম্প্রতি শ্রম আইন সম্পর্কিত নথি রাজ্যের হাতে পৌঁছনোর পর অভিযোগ ওঠে, ১০০ দিনের কাজে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। সেই ক্ষোভই এদিন মঞ্চ থেকে প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তিন-চার দিন আগে নোটিস পাঠিয়েছে। এই শর্ত রাজ্যকে অপমান করার সমান।”
মমতার দাবি, ১০০ দিনের কাজের বাবদ এখনও কেন্দ্রের কাছে বকেয়া রয়েছে প্রায় ৫১,৬১৭ কোটি টাকা। তাঁর বক্তব্য, “মানুষকে কাজ দেওয়ার দায়িত্ব আমরা নিতেই পারি। বিকল্প কর্মশ্রী প্রকল্প চালু করব। আবার ক্ষমতায় এলে নিজস্ব উদ্যোগেই ১০০ দিনের কাজের বন্দোবস্ত করব।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, কোচবিহারের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতীকী প্রতিবাদ ভবিষ্যতে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের ভোটারদের উদ্দেশে একটি দৃঢ় রাজনৈতিক বার্তাও পৌঁছে দিলেন তিনি।