এসএন মিডিয়া,নিউজ ডেস্ক:পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীর সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে এলপিজি আমদানির কৌশলে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারত। এতদিন দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে সংকটের জেরে এলপিজিবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এরপর থেকেই বিকল্প উৎসের দিকে জোর দেয় কেন্দ্র।
সরকারি তেল বিপণন সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আমেরিকার সঙ্গে হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে ২০২৬ সালে মোট চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা ছিল। তবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত তীব্র হওয়ার পর সেই পরিকল্পনা দ্রুত বিস্তৃত হয়। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে আমেরিকা থেকে ভারতের এলপিজি আমদানি ছিল ৮ শতাংশেরও কম। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা বেড়ে ১২ শতাংশ হয়। মার্চে তা পৌঁছায় ৩৭ শতাংশে, এপ্রিলে ৪০ শতাংশ, মে মাসে ৫৫ শতাংশ এবং জুনে রেকর্ড ৬৫ শতাংশে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশ থেকেও এলপিজি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব যাতে দেশের রান্নার গ্যাস সরবরাহে না পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।